Skip to content Skip to footer

পাওয়ারপয়েন্টের অজানা তথ্য!

‘প্রেজেন্টেশন’। এই শব্দটা শুনলেই অনেকের স্নায়ু শীতল হয়ে যায়, হাত পা কাঁপতে থাকে, বুক ধুকধুক করতে থাকে। এটা কম বেশি আমাদের সকলের সাথেই হয়েছে বা হবে। কিন্তু ভয় পেলেই তো আর এই অনিবার্য বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়া যাবেনা।     ঠিক!!

প্রেজেন্টেশন আমাদের কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে অফিসে, কনফারেন্সে কম বেশি সবাইকেই দিতে হয়। এই প্রেজেন্টেশন কে আরেকটু দৃষ্টি নন্দন আর আকর্ষণীয় করতে যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার। আর প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার এর কথা শুনলে প্রথমেই যে নামটি মাথায় কড়া নাড়তে থাকে সেটি হলো মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট।

পাওয়ারপয়েন্টের শুরুর কথা

পাওয়ারপয়েন্ট সফটওয়্যারটি সর্বপ্রথম তৈরি করেছিলেন রবার্ট গাসকিনস এবং ডেনিস অসটিনস নামের দুইজন ব্যক্তি ১৯৮৭ সালে। তাও ফোরথট ইনকরপোরেশন নামক একটি সফটওয়্যার কোম্পানির অধীনে সফটওয়্যারটি রিলিজ হওয়ার ৩ মাসের মাথায় মাইক্রোসফট এই সফটওয়্যারটি কিনে নেয় ১৪ মিলিয়ন ডলার দিয়ে। এরপরই শুরু হয়ে গেলো মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের যাত্রা। যাত্রা শুরু করে থেমে থাকেনি পাওয়ারপয়েন্ট। ১৯৯০ সালে মাইক্রোসফট অফিস বান্ডেলের সাথে যুক্ত হয়ে যায় অনায়াসে। আর তারপর থেকে আমরা পেয়ে গেলাম আমাদের প্রেজেন্টেশনকে মনোমুগ্ধকর করে তোলার এক অনন্য হাতিয়ার।

পাওয়ারপয়েন্ট কী ও কেন?

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের একটি প্রেজেন্টেশন ডিজাইন সফটওয়্যার। এটি যেমন ছোট বড় যেকোনো কর্পোরেট বা একাডেমিক স্লাইড শো প্রেজেন্টেশনের কাজে ব্যবহার করা হয়, তেমনি যেকোনো ধরনের ডিজাইন, ইনভাইটেশন লেটার, প্রোপোজাল লেটার, সার্টিফিকেট, শুভেচ্ছা কার্ড,  ব্রশার ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইনের কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে কী করি? 

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে যেকোনো ইনফরমেশন কে আরো প্রাণচঞ্চল করে তোলা সম্ভব। চিন্তা করুন তো, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছেন। অনেক খাটাখাটুনি করে এই ইনফরমেশনগুলো আপনি সংগ্রহ করেছেন। রাত জেগে না খেয়ে দেয়ে প্রেজেন্টেশন স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছেন। অথচ যখন প্রেজেন্টেশনটা দিচ্ছেন সামনে তাকিয়ে দেখলেন দর্শকদের কেউই খুব একটা আগ্রহ নিয়ে আপনার কথা শুনছেনা। তারা নিজেদের মত মোবাইলে ব্যস্ত, কেউ গল্প করছে, কেউ হয়তো বা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আপনার এত কষ্ট, পরিশ্রম, খাটাখাটুনি সব বৃথা মনে হবেনা? অবশ্যই হবে। আর এর উল্টো দৃশ্য টা তখনি দেখা যাবে যখন আপনি আপনার সংগ্রহ করা ইনফরমেশনগুলো এবং আপনার চিন্তাগুলোকে দৃশ্যমান কোনো স্লাইড বা ভিডিও ইনফোগ্রাফিতে প্রদর্শন করবেন। তখন সবাই একটু কৌতুহল আর আগ্রহ নিয়ে আপনার প্রিপারেশনটা দেখবে। আর বিজ্ঞানও কিন্তু বলে, আমাদের মস্তিষ্ক শোনার চেয়ে দেখা জিনিস মেমোরাইজ করতে পারে দ্রুত আর সেটা অনেকদিন সংরক্ষণও করে রাখতে পারে । 

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট আপনার প্রেজেন্টেশন কে এই একঘেয়েমিতা থেকে পরিত্রাণ দিবে খুব সহজেই। পাওয়ারপয়েন্ট এ খুব সহজে স্লাইড তৈরি করা যায়, নিজের ইচ্ছেমত ডিজাইন করা যায়, এনিমেশন যোগ করা যায়, এমনকি সুন্দর সুন্দর মনোমুগ্ধকর ট্রানজিশনস যোগ করে একটি সুন্দর ভিডিও তৈরি করা যায়।

পাওয়ারপয়েন্ট শুধু যে প্রেজেন্টেশন দিতেই দরকার হয় তা কিন্তু একেবারেই না। পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে এখন অনেকেই কোনো অনুষ্ঠান বা ইভেন্টের আউটলেট তৈরি করছে। লিফলেট তৈরি করছে, পোস্টার বানাচ্ছে। ইভেন্টের ইনভাইটেশন কার্ড এমনকি সার্টিফিকেটও বানানো হচ্ছে এই পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে। 

পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে যেমন স্লাইড শো,  ভিডিও, ইনফোগ্রাফি তৈরি করা যায় এবং খুব সহজে সেটা প্রদর্শন ও করা যায়, তেমনই কোনো ডকুমেন্ট যেকোনো ফরমেটে কনভার্ট করে প্রিন্ট আউট ও করা যায়। আরো অনেক অনেক চমৎকার কাজ করা যায় এই একটি সফটওয়্যার দিয়ে। বর্তমানে শুধু পাওয়ারপয়েন্ট শিখে নানান ফ্রিল্যান্সিং করার সুযোগ পাচ্ছে ছেলে মেয়েরা। 

ইউটিউবে,  ফেসবুকে,  গুগলে সার্চ করে মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট এর অনেক কোর্স পাওয়া যাবে যা থেকে খুব সহজেই পাওয়ারপয়েন্টের যেকোনো কাজ শিখে ফেলা যায় অনায়াসেই। ইউটিউবে এ নিয়ে হাজার হাজার ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে। এখন পাওয়ারপয়েন্টে কাজ শিখা একেবারেই সহজ। তাই নিজের সুন্দর সুন্দর চিন্তাগুলোকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে মানুষের কাছে প্রেজেন্ট করতে পাওয়ারপয়েন্ট এর জুরি নেই বললেই চলে।

 

Sign Up to Our Newsletter

Be the first to know the latest updates

Whoops, you're not connected to Mailchimp. You need to enter a valid Mailchimp API key.

This Pop-up Is Included in the Theme
Best Choice for Creatives
Purchase Now