Skip to content Skip to footer

রোবট বানিয়ে দেশ বিদেশে অর্ধশত অর্জন এই তরুণ বিজ্ঞানীর!

রোবটিক্স এর প্রতি ভালোবাসা ছিল ছোটবেলা থেকেই। হাতেখড়ি হয়েছে নিজে নিজেই, ছোটবেলা থেকেই খুজঁতাম যন্ত্রের ভিতরের ভাষাকে। এর ভিতরে লুকিয়ে থাকা রেজিস্টার, ট্রানজিস্টর আর সার্কিট বোর্ড প্রতিনিয়িতই আমাকে কৌতূহল উদ্দীপ্ত করতো। এভাবেই একসময় ভালোলাগা থেকে পরিণত হয় স্বপ্ন ও লক্ষ্যে এবং তখন থেকেই আমার প্রতিদিনের কাজের অংশ হয়ে যায়। নতুন ভাবে কোন কিছু করার চিন্তা থেকে টুকিটাকি ছোটছোট জিনিস বানাতে থাকি, অংশগ্রহণ করি বিভিন্ন আন্তঃ স্কুল কলেজ এবং জাতীয় বিজ্ঞান মেলায়, মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় প্রায় অধিকাংশ সময়ই নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছি সকল প্রতিযোগিতায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সম্মানজনক স্থানেও নিয়ে এসেছি। আলাপচারিতায় এমনটিই জানাচ্ছিলেন ‘ফায়ার ফাইটিং রোবট’ বানিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২১ পাওয়া সানি জুবায়ের। ‘১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে কারিগরি ব্যক্তিগত (বেসরকারি) বিভাগে এই পুরস্কার পান তরুণ বিজ্ঞানী সানি জুবায়ের, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক পুরস্কারটি তুলে দেন, ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’।

এই তরুণ বিজ্ঞানী বলেন, দেশে অগ্নিকান্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে চলছে। অগ্নিকান্ডের এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ, আগুনের উৎস স্থান খুঁজে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন, আটকে পড়া মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া, তাদের সাথে প্রয়োাজনীয় যোগাযোগ করা , ক্ষতিকারক ধোঁয়া ভ্যাকিউম করাসহ সকল তথ্য সংগ্রহ করে অগ্নিনির্বাপক দল এর কাছে পৌঁছে দেয়ার মত সকল কাজে সক্ষম আমার ডিফেন্ডার নামের অগ্নিনির্বাপক রোবটটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আর.সি. নিয়ন্ত্রণ এই দুই পদ্ধতিতেই রোবট নিয়ন্ত্রিত হবে। মানুষের যাওয়া যেখানে প্রায় অসম্ভব সেখানে রোবট অনায়াসে পৌঁছে কাজ করতে পারবে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃক আয়োজিত রোবট প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায় প্রথম হয় এই রোবট। এবার পেল ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২১ ।

সানি জুবায়ের ব্যবহারিক পদার্থবিজ্ঞান এবং রোবটিক্স নিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে এবং ব্যক্তিগত প্রকল্পে কাজ করছেন। এছাড়াও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে সিনিয়র গ্রুপে সর্বপ্রথম ব্রোঞ্জ ও টেকনিক্যাল পদক অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সানি জুবায়ের স্কুল জীবন কাটে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে। এইচ.এস.সি শেষ করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে। ্এখন ব্র্যাক ইউনির্ভাসিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

সানি বলেন, ছোটবেলার রোবট নিয়ে কাজের প্রতি ভালোলাগা ধীরেধীরে নতুন কিছু জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে বানাতে শুরু করি অত্যাধুনিক কিছু রোবট। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকটি অটোনোমাস রোবট এবং মার্স রোভার বানাতে সক্ষম হই। বর্তমানে কাজ করছি অগ্নি নির্বাপনের জন্য সিগমা—২১ নামক রোবটের উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিগমা—২১ এবং সামনেও বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে তারমধ্যে কয়েকটি হল— আগুন দিয়ে তৈরিকৃত বিদ্যুৎ কোষ, স্বল্প দামে দেশীয় পদ্ধতিতে বানানো করোনা রোগীর জন্য ভেন্টিলেটর এবং সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডের রহস্য বের করার জন্য রোবোটিক সাবমেরিন। ছোটবেলায় সেই ভালো লাগার কাজটিকে নিয়ে সামনে অনেক স্বপ্ন দেখি। প্রতিনিয়ত লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বড় অংশ আমি আমার কাজের পেছনে দিয়ে থাকি। আশা করি খুব শীঘ্রই দেশকে নতুন কিছু দিতে সক্ষম হবো।তরুণ বিজ্ঞানী সানি জুবায়ের এর দেশে বিদেশে রয়েছে অর্ধশত অজর্ন। ১৬টি জাতীয় বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় পদক অর্জন, যা মধ্যে ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, জাতীয় রোবটিক চ্যালেঞ্জ, জাতীয় রোবট অলিম্পিয়াডসহ আরো কয়েকটি প্রতিযোগিতা, আন্তঃ স্কুল এবং কলেজ প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ৫৬টি পুরস্কার পান তিনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ১৫টি পদক অর্জন করেন, এর মধ্যে ছিল — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদি।

তরুণ বিজ্ঞানী সানি জুবায়ের
                                                           তরুণ বিজ্ঞানী সানি জুবায়ের

তার বানানো রোবট সমূহ : এফআর —২১ (ফাইটার রোবট) সামরিক কাজে ব্যবহার উপযোগী একটি রোবট, ব্রেইন বট সম্পূর্ণ অটোনোমাস ভিত্তিক দৈনিক কাজে সাহায্যকারী একটি রোবট, অ্যাটলাস নামের রোবট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একটি মঙ্গল রোভার, ফারমোভার একটি কৃষি রোবট, ফ্যালকন এক্স, এক্স আই.ভি একটি রেসিং রোবট , গমা—২১ একটি অগ্নিনির্বাপক রোবট, এটলাস এওভি— একটি অটোনমাস পরীক্ষামূলক  সাবমেরিন, টলাস এভিভি— সাগরের পানি পরিষ্কার কারক একটি রোবট। অক্সিবক্স অল্প দামের ভেন্টিলেটর— স্বল্প খরচে করোনায় আক্রান্তদের জন্য ভেন্টিলেটর প্রকল্প।

তরুণ বিজ্ঞানী সানি জুবায়ের বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমি এবং আমার দল বাংলাদেশকে সম্মানের সাথে উপস্থাপন করি এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এস.এ.ইউ.ভি. সি প্রতিযোগিতা, ভারতে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড রোবটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপসহ আর ও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা। আমার টিম অ্যাটলাস নামের একটি রোভার দল আছে। বর্তমানে যার সদস্য সংখ্যা ১৮জন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় প্রতিযোগিতায় আমি এবং আমার দল অংশগ্রহণ করি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে আমি এবং আমার দল সর্বোচ্চ দিয়ে দেশকে উপস্থাপনের জন্য কাজ করি। আমাদের দলটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের কৃতিত্বকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের সাথে উপস্থাপন করা এবং দেশের গুরুতর কিছু সমস্যাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা। এই লক্ষ্য নিয়ে আমি এবং আমার দল সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে রোবটিক্সকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই এটা আমার স্বপ্ন, সাথে সাথে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে নিজের সবটুকু দিয়ে প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাধান দিতে চাই। যারা নতুনভাবে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করতে চায় তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সৃষ্টিশীলতার অনেক বিষয় লুকিয়ে আছে রোবটিক্স এর ভিতরে। এর জন্যই তার প্রাথমিক ধারণাগুলো নিতে হবে সবার প্রথমে এবং সাথে প্রোগ্রামিং করাটাও আয়ত্তে আনতে হবে। দিনে কিছু সময় এর পিছনে মনোযোগ দিতে হবে। অন্যকে অনুকরণ না করে নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে অবশ্যই কাজ করতে হবে। এভাবেই খুব দ্রুত চর্চার মাধ্যমে রোবটিক্স—এ দক্ষ্য হয়ে ওঠা যাবে। অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে রোবটিক্স অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

 

Sign Up to Our Newsletter

Be the first to know the latest updates

Whoops, you're not connected to Mailchimp. You need to enter a valid Mailchimp API key.

This Pop-up Is Included in the Theme
Best Choice for Creatives
Purchase Now