Skip to content Skip to footer

মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সাইবার বুলিং এর প্রভাব

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শৈশবে সাইবার বুলিং এর শিকার হওয়া কিশোর কিশোরীরা একযোগে আচরণগত এবং মনোসামাজিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। সাইবার বুলিং এর শিকার হওয়া কিশোর কিশোরীদের মানসিক পরিবর্তনগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

বর্তমান সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের জীবনে এনে দিয়েছে অভিনবত্ব। সব ক্ষেত্রেই এনেছে বিপ্লবের ছোঁয়া।

মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সাইবার বুলিং এর প্রভাব

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমরা যেমন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি, তেমনি নতুন নতুন শব্দের সাথেও আমরা পরিচিত হচ্ছি।সাইবার বুলিং আধুনিক যুগে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো উদ্দেশ্যে বারবার খারাপ মন্তব্য করে তাকে সবার কাছে ছোট করা, কারো ছবি বা ভিডিওচিত্র বাজে ভাবে উপস্থাপন করা, ইনবক্সে হুমকি কিংবা বাজে ম্যাসেজ দেওয়া, ফেইক তথা নকল আইডি দিয়ে হয়রানি করা, অনুমতি না নিয়ে বারবার বাজে গ্রুপে অ্যাড করাই সাইবার বুলিং। সাইবার বুলিং বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একটি উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে বিশ্বের ৫১ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহার করেন, এবং তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটে হয়রানির শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ সহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে পরিচালিত একটি সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে ২০১৬ সালের বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দেশগুলিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। ২০১৯ সালের শুরুতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফ বাংলাদেশ -এর জরিপ ‘বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা’ বলছে,

দেশের ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও উৎপীড়নের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে, ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে।

ন্যান্সি উইলার্ড, সাইবার বুলিং অ্যান্ড সাইবারথ্রেটস: রেসপন্ডিং টু দ্য চ্যালেঞ্জ অফ অনলাইন সোশ্যাল অ্যাগ্রেসন, থ্রেটস অ্যান্ড ডিস্ট্রেস এর লেখক লিখেছেন যে সাইবার বুলিং এর প্রভাব স্কুলের বুলিং এর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে কারণ সাইবার বুলিং করা শিশুদের পালানোর সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীরা তাদের হয়রানিকারীকে শনাক্ত করতে পারে না এবং মনে করে, সকলেই তাদের বিরুদ্ধে। আর এর কারণে বুলিং এর শিকার হওয়া ভিকটিমের বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয় ।

নিম্নে কয়েকটি মানসিক সমস্যা উল্লেখ করা হলো-
• বুলিং সম্পর্কে কষ্ট অনুভুত হওয়া।
• হতাশা অনুভূতি বৃদ্ধি ও মেজাজ পরিবর্তন হওয়া।
• উদ্বেগের অনুভূতি বৃদ্ধি।
• আত্মঘাতী ধারনা বা আত্মহত্যার চেষ্টা।
• ভয়ের অনুভূতি বেড়ে যাওয়া।
• আত্মসম্মান বা স্ব-মূল্যবোধের অনুভূতি কমে যাওয়া।
পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসের লক্ষন।
• আত্ম-ক্ষতি (যেমন- হাত কাটা, নিজেকে আঘাত করা, মাথায় আঘাত করা ইত্যাদি )।
• রাগ, বিরক্তি বা রাগান্বিত আক্রোশের অনুভূতি বেড়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

 

এই সকল মানসিক সমস্যার পেছনে কাজ করে বেশ কিছু হরমোন। কিছু হরমোনের অসংগতির ফলে ব্যক্তির ব্যবহারে পরিবর্তন হয়। উদাহরণস্বরূপ, থাইরয়ড গ্রন্থির অধিক ক্রিয়ার ফলে আক্রান্ত মানুষজন অত্যধিক মানসিক চাপে ভুগতে পারে, এটির প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্ষরণ হলে রোগীর বিষাদগ্রস্ততার সাথে মিলে এই লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে অধিক টেস্টোস্টেরন হরমোন ব্যক্তিটিকে বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। সেইসব মানসিক রোগের ক্ষেত্রে হরমোনের ভূমিকাও নস্যাৎ করা যায় না। নিচে কয়েকটি হরমোনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে:

স্ট্রেস হরমোন: যখনই আমাদের মানসিক চাপ থাকে তখনই শারীরিক বেশ কিছু হরমোন যেমন অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল এগুলি বেশি মাত্রায় ক্ষরণ হয় এবং সেই থেকেই হতে পারে সমস্যা। মানসিক চাপ বাড়তে থাকে এবং দিনের পর দিন একই পরিস্থিতি বজায় থাকলে, ঝামেলা আরও বৃদ্ধি পায়। স্ট্রেস বাড়লে এইসব হরমোনের ক্ষরণ ক্রমশই বাড়তে থাকে।

ডোপামিন (dopamine): কেটেকোলামিন (catecholamines) গোত্রের অন্তর্গত ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার। ডোপামিনের বৃদ্ধি স্কিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগের সৃষ্টি করে। অন্য কারণ থাকলেও এসব বৃদ্ধির জন্যই হয় বলে এতটা জোর দিয়ে বলা হয় হয়। তবুও প্রারম্ভিক পর্য্যায়ের জন্য ডোপামিনের বৃদ্ধিই যে স্কিজোফ্রেনিয়া রোগের সৃষ্টি করে তা বলা যেতে পারে। এই ব্যাখ্যার স্বপক্ষে দেখানো যায় যে, স্কিজোফ্রেনিয়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিকসমূহ মস্তিষ্কের ডোপামিনের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে রোগের লক্ষণ কম করতে পারে। নেশাযুক্ত দ্রব্যর ব্যবহার সম্বন্ধীয় রোগে ডোপামিনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

এড্রিনালিন, নরএড্রিনালিন (adrenaline, noradrenaline): বিষাদগ্রস্ততা ও মানসিক চাপজনিত রোগে (depression and anxiety disorders) এই দুটি নিউরোট্রান্সমিটারে হওয়া পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

সেরোটোনিন (serotonin): বিষাদগ্রস্ততা ও মানসিক চাপ জনিত রোগে এই নিউরোট্রান্সমিটার টিকে পার্থক্য হতে দেখা গেছে। আজকাল সবরকম ব্যবহৃত বিসাদগ্রস্ততার ওষুধ মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে রোগের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে।

মেনোপজ: এর ফলে নারীর শরীরে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।মেনোপজের পর শরীর অদ্ভুত সব আচরণ শুরু করে। অবশ্য পরিবর্তনটা দেখা যায় মেনোপজ শুরু হবার আরও আগে থেকেই।এই স্তরটিকে তাই বলা হয় প্রি-মেনোপজ।

টেস্টোস্টেরন: টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি অনেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। অনেকে কোনো কাজে একভাবে মনঃসংযোগ করতে পারেন না, স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে; এমনকি অনেকে বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন।

সাইবার বুলিং এর ফলে এই মানসিক পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই অনেকের কাছে অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে । মানসিক পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন অর্থাৎ বিভিন্ন হরমোন কম বেশি হতেও দেখা যায় ফলে মানসিক সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। সাইবার বুলিং এর প্রভাব স্পষ্টতই খুবই ভয়াবহ। আর আমাদের সমাজে সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে কোন ক্ষতি হওয়ার আগেই সেটি সমাধানে কাজ করতে হবে। সাইবার বুলিং প্রতিরোধ করার মাধ্যমেই আমরা এ ধরণের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারি।

ব্লগটি লিখেছেন: শাবনুর আক্তার, আবিদ হাসান, তামীমা তাবাসসুম তুবা

নিরাপদ ইন্টারনেট, নিরাপদ কৈশোর
সাইবার টিনস ফাউন্ডেশন

Sign Up to Our Newsletter

Be the first to know the latest updates

Whoops, you're not connected to Mailchimp. You need to enter a valid Mailchimp API key.

This Pop-up Is Included in the Theme
Best Choice for Creatives
Purchase Now