Skip to content Skip to footer

ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘বাঁচাও’ অ্যাপ!

শাকেরা আক্তার নিপু :

শত শত মায়ের দিন রাতের ঘুম হারাম হয়ে আছে, মেয়ের নিরাপত্তার অভাবে। কত মা নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না, মেয়েকে ধর্ষিতার কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এই লজ্জায়। হাজার হাজার নারী জাতি, পুরুষ জাতির কাছে আজ জিম্মি। অনেক মেয়েই বর্তমানে স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছে না, এই একটি ভয়ে। তবে “এই ভয়কে কিছুটা লাঘব করতে চলে এসেছে বাঁচাও অ্যাপ ।”

ধর্ষণের থেকে রক্ষা পেতে আমরা চিৎকার করে বলি, ‘বাঁচাও’ কিন্তু সেই চিৎকারে সাড়া পাওয়া তো মুশকিল। আশ পাশের কেউ এই শুনতে পায় না, বা অনেক সময় আর্তনাদের সুযোগ থাকে না। নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায় থাকে না। নিজেকে অসহায় লাগে, নিরুপায় লাগে,  জীবনটা এখানেই শেষ এই নিয়ে চিন্তা শুরু হয়। কিন্তু আধুনিকতার যুগে, ‘আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি যদি হতে উঠে আমাদের নিরাপত্তার হাতিয়ার কেমন হয়?” 

হ্যাঁ, ঠিক এই বলসি! এবার ধর্ষণকে না বলে, নিরাপত্তা দিতে চলে এসেছে ”বাঁচাও” অ্যাপ। 

”বাঁচাও” অ্যাপের শুরুর যাত্রা :

বাঁচাও অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইঞ্জিনিয়ার জালাল আহমেদ। এর শুরুর যাত্রাটা খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। 

জালাল আহমেদ জানান, ” ২০০১ সালে প্রেম করে বিয়ের পর তার বোনকে “বিক্রি” করে দিয়েছিলেন তার স্বামী। এরপর তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এবং ধর্ষণকারীরা তাকে হুমকি দিয়েছিল যে হত্যার পর মর্গে তার মৃতদেহকেও ধর্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, “ওই দিন থেকে আমার বোন আর কোনো কথা বলেনি।” 

এরপর মাকে হারালাম। মা মারা যাওয়া আগে বলেছিলো, এতো বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়ে অসহায় মেয়েদের জন্য কিছু করতে পারো না বাবা? ওদের পাশে থেকে ওদেরকে পারলে “বাঁচাও” ।

সেই ‘বাঁচাও’ শব্দটি আমার কানে লাগে খুব, ঠিক ওই রাতেই আমি সিদ্ধান্ত নেই বাঁচাও নামে একটি প্রকল্প করব।” সেই থেকেই যাত্রাটি শুরু!

জালার আহমেদের মহৎ এই উদ্যোগের সঙ্গী হয়েছেন সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণকে চিরতরে নির্মূল করা না গেলেও অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন বাঁচাও অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা।

কীভাবে কাজ করবে অ্যাপটি?

‘বাঁচাও’ অ্যাপ কাজ করবে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। এবং এই অ্যাপে পি টু পি বা পিপল টু পিপল মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। 

তাই একটি মাত্র ক্লিকে সমস্যায় পড়া একজন নারী তার কাছাকাছি স্বেচ্ছাসেবক, পরিবার, বন্ধু অথবা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারবেন। জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম প্রযুক্তি তখন নিমিষেই সাহায্য চাওয়া নারীর অবস্থান খুঁজে বের করবে। এক্ষেত্রে তার নাম্বার গোপন থেকে টেক্সট বা অডিও কলেও যোগাযোগ করা যাবে।  

প্রথমত, গুগল প্লে স্টোর থেকে বাঁচাও অ্যাপটি ইনস্টল করুন। 

(১) একটি ভেরিফিকেশন কোড পেতে আপনার ফোন নম্বর প্রদান করুন এবং প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করুন। 

(২) আপনার জরুরী ৩টি ফোন নাম্বার নির্বাচন করুন যেমন- আপনার পিতামাতা, পরিবারের সদস্য বা বন্ধু।

এইভাবে অ্যাপটি শুরু করে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে সাহায্য নিতে পারবেন আপনি আমি সারাদিনের ২৪ ঘন্টায়!

বাঁচাও এর লক্ষ্য বাংলাদেশে ধর্ষণের সংখ্যা কমানো। “আমরা বাংলাদেশে ধর্ষণের সংখ্যা অর্ধেক করার লক্ষ্য নিয়েছি; একটি সার্ভে থেকে জানা যায় ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন ১৭ টি করে ধর্ষণ হত সেখানে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত তা ৮টি তে নেমে এসেছে,” জানালেন প্রতিষ্ঠাতা জালাল!\

আগস্ট, ২০২১ এ সীমিত আকারে অ্যাপটি চালু করা হলেও গত ২ অক্টোবর, ২০২১ থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ তা ডাউনলোড করেছেন। এর মধ্যে ৫৫% ঢাকার বাসিন্দা এবং এর পরেই রয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা।

কিন্তু, ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ধর্ষণের সংখ্যা কমিয়ে আনতে দেশের ৬৪টি জেলায় কাজ করে যাচ্ছে “বাঁচাও” অ্যাপটি নিয়ে। 

লক্ষ অর্জনে “বাঁচাও অ্যাপ”, দিনশেষে এ দেশ আমাদের, তাই এদেশের শিশু থেকে নারী সবার সুরক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই।

App Link:  https://play.google.com/store/apps/details?id=com.Bachao.Life.Foundation

Visit website: https://www.bachao.com.bd  

Sign Up to Our Newsletter

Be the first to know the latest updates

Whoops, you're not connected to Mailchimp. You need to enter a valid Mailchimp API key.

This Pop-up Is Included in the Theme
Best Choice for Creatives
Purchase Now